সারা দেশে অবৈধ জ্বালানি মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী দেশব্যাপী চালানো এই অভিযানের একটি চিত্র তুলে ধরেন।
যুগ্মসচিব জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার লিটার তেল। মজুতের দায়ে এসব অভিযানে জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতে জড়িত থাকায় ২১ জনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই। পুরো এপ্রিল মাসজুড়েই সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সময়মতো সব তেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছালে মে মাসেও সংকটের আশঙ্কা নেই।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা গড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের মতো। আমি হিসেব করে দেখেছি, আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। এ ব্যাপারে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি। ফলে কোনো সংকট নাই। এপ্রিল মাসটা আমরা পুরোপুরি নিরাপদ আছি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে বর্তমান মজুত এবং আমাদের যে জাহাজগুলো আসছে (ইনকামিং), প্রত্যেকটাই অন টাইম আছে। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, দেশে প্রতি মাসে অকটেন ও পেট্রোলের দরকার হয় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। পেট্রোল এবং অকটেনেরও পর্যাপ্ত মজুত দেশে আছে বলে জানিয়েছেন যুগ্মসচিব।
যুগ্মসচিব আরও বলেন, ডিপো থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়মিত থাকলেও, আতঙ্কের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছেন।
বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভিআইপিদের বাড়তি কোন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।