নতুন কুঁড়িতে চা বাগানে প্রাণ ফিরলেও দাম-মান নিয়ে দুশ্চিন্তা

প্রতিকূল আবহাওয়ায় গত মৌসুমে দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। তবে চলতি মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি পাওয়ায় মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে বাড়ছে নতুন কুড়ি। তবে চায়ের নিলামে কম দাম ওঠায় আর বাজারে নিম্ন মানের চায়ের প্রভাব থাকায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের চা শিল্প। চলতি বছরে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি।

সবুজে মোড়ানো চা বাগান। গাছের ডগায় ডগায় নতুন কুড়ি। বৃষ্টি শুরু হতেই আবারও প্রাণের দোলা মৌলভীবাজারের চা বাগানে। গত মৌসুমে দেশের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজির বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার কেজি। প্রতিকূল আবহাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে চলতি বছরে দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি।

চা বাগানের কর্মচারীরা জানান, এখন থেকে শুরু করে তিন মাস কুঁড়ি অবস্থায় পাতা তোলা হবে। তারপরে আসবে সম্পূর্ণ পাতা। 

দেশের মোট চা উৎপাদনের সিংহভাগ আসে মৌলভীবাজার জেলার ৯০টি চা বাগান থেকে। অন্যদিকে নিলামে চায়ের দাম কম ওঠায় অনেক বাগান মালিকই হিমশিম খাচ্ছেন।

সিলেট ব্রাঞ্চ বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জি এম শিবলী বলেন, গত মৌসুমে অনাবৃষ্টি এবং আবহাওয়ার আনসার্টেনিটির কারণে ঠিকমতো চা উৎপাদন করা যায়নি। বাগানগুলো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় আট শতাংশ পিছিয়ে ছিল।

এদিকে সমতলে চা উৎপাদন বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন, এমন চা বাজারে আসায় সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে গোটা চা শিল্পের।

শ্রীমঙ্গলের জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, মাঠে যেমন অন্য ফসল হয় যেমন শাক-সবজি তেমনি সমতলে চা উৎপাদন করে কাঁচি-দা দিয়ে কেটে চা পাতা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে, চায়ের উৎপাদন বাড়ছে কিন্তু গুণগত মানের দিক থেকে এটি অনেক পিছিয়ে আছে। পঞ্চগড়ের বেশি উৎপাদিত চা যখন সিলেট-চট্টগ্রামের চায়ের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তখন মেইন স্ট্রিমের চা উৎপাদন, মান ও দাম নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা ১৭১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগান রয়েছে মৌলভীবাজারে ৯০টি।