গত সাড়ে ৫ দশকেও জ্বালানি তেল পরিশোধনে রাষ্ট্রীয় রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়েনি। সেই সঙ্গে কৌশলগত জরুরি এ পণ্যের মজুত সক্ষমতাও কম। তাই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিতে পড়ে দেশের জ্বালানি খাত।
নীতি নির্ধারকরা বলছেন, সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারির আয়ু ২ দশক আগেই শেষ। নিয়মিত সংস্কারে কম দক্ষতায় চলছে পরিশোধন। যেখানে বার্ষিক চাহিদার ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল মেলে। বাকি পরিশোধিত তেল আমদানিতে বাড়তি ডলার গুনতে হয়।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় এমন জ্বালানির দাম সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে। যেমন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাড়িয়েছে।
এমন অবস্থায় বার্ষিক ৩০ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতার, দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতদিন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয়ভাবে এই রিফাইনারি করতে দেয়নি।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, ‘রিফাইন্ড অয়েল আমদানি করার কারণে ক্রুড অয়েলের তুলনায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমবেশি হয়। আমাদের তো পুরোনো রিফাইনারির সক্ষমতাই অনেক কম। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট বাড়িয়ে মিনিমাম আরও ৩০ লাখ টনে উন্নতি করা দরকার। এখন ১৫ টন আছে। সবকিছু সরকারি মালিকানায় নিতে হবে।’
চার মাস আগে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। যেখানে বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেবে ১২ হাজার কোটি। বাকি অর্থ আসবে সরকারি এবং বৈদেশিক ঋণে। নীতি নির্ধারকরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘জ্বালানির মজুত থাকার দরকার ছিল এবং বেঞ্চ মার্কিং করা দরকার ছিল। সেগুলো আমরা পাইনি। এখন আমরা মাথা চাপড়াতে পারি। সেটা চাপাড়ানোর দরকার নাই। সেজন্য আপনারা খেয়াল করেছেন আমরা সেগুলো উত্তরণের জন্য স্বল্পমেয়াদী, দীর্ঘমেয়াদী বিশষয়ের দিকে যাচ্ছি।’
২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি রাশিয়াসহ বিভিন্ন উৎসের অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা যাবে। যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়াবে।