তেল সংকট কাটাতে আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তি পর্যালোচনার তাগিদ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তি দ্রুত পর্যালোচনার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, না হলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল পাওয়া কঠিন হবে।

এছাড়া, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আসার অপেক্ষায় থাকলে সংকট বাড়বে বলে মত তাদের। তেলের জন্য ভারত, চীন ও রাশিয়াকে বিকল্প ভাবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

এদেশের জ্বালানি খাত অনেকটাই আমদানি নির্ভর। যে কারণে ইরান যুদ্ধের জেরে দেখা দিয়েছে তেলের সংকট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় পাম্পে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। এরই মধ্যে দামও বাড়িয়েছে সরকার।

ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের হাতিয়ার এখন হরমুজ প্রণালি। এ পথে তেল আনতে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে। যে কারণে তেল আমদানিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আসার অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। সেটা করলে সংকট আরও বাড়বে। বিকল্প উৎস খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, ‘একটাই উপায় আমরা হরমুজ প্রণালি বাদ দিয়ে আমদানি করতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক ২৭ শতাংশের বেশি তেল রপ্তানি হয় না। অন্যান্য চ্যানেল দিয়ে আমাদের আনতে হবে। আমরা রাশিয়ান চ্যানেল ব্যবহার করতে পারি।’

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেল আমদানিতে এর চেয়েও বড় বাধা আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি। সেটি পুনঃমূল্যায়ন করা না হলে অন্য দেশ থেকে তেল পাওয়া কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ সাহাদাত সিদ্দিকী বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি, সে চুক্তিটা কিন্তু একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়েছে, আমি কতটুকু সোর্সকে ডাইভার্সিফাই করতে পারব। এখন সরকারকে কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি সেটা নিয়েও কিন্তু এখন রাজনৈতিক সরকার আলোচনায় বসতে পারে। কিংবা এর একটা সূরাহা টানতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তেল সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ব্যয় কমাতে হবে। মজুত তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।