গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট

দেশের ক্রয়াদেশ ‘চলে যাচ্ছে’ ভারতে

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বিদেশি ক্রেতারা। এসব ক্রয়াদেশ ভারতে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরঞ্জামে কর ছাড়ের দাবি জানান তাঁরা। ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেন তাঁরা।

দেশের রপ্তানি আয় টানা আট মাসের মতো নিম্নমুখী ধারায়। অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে মোট রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। কমেছে তৈরি পোশাক রপ্তানিও।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীরা জুলাই-আগস্টের ক্রয়াদেশ নিয়ে উদ্বেগ জানান। তাঁরা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ক্রয়াদেশ চলে যাচ্ছে ভারতে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর ছাড়সহ এনবিআরের নীতিগত সহায়তা চান তাঁরা।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, ‘ওরা এখন বলা শুরু করে দিয়েছে—গত এক সপ্তাহে আমি বড় চারজন ক্রেতার কাছে শুনলাম যে, তোমাদের দেশে তো আর কিছুদিন পরে বিদ্যুৎ থাকবে না; তোমাদের অর্ডার দিতে আমাদের টপ ম্যানেজমেন্ট এখন না করছে।’

গাজীপুর চেম্বারের পরিচালক মুস্তাজিরুল ইসলাম শোভন বলেন, ‘এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করছে, অন্যগুলোও করছে। এখানে আপনারা গ্রিন এনার্জি বা সোলার প্যানেলের মতো সরঞ্জামগুলোতে যদি একটু সহায়তা (কর ছাড়) করতে পারেন।’

এ সময় ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে খরচ বেড়েছে। করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, করপোরেট কর কমানোর পরিকল্পনা নেই তাঁদের। করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘ট্যাক্সপেয়াররা রিফান্ড নেওয়ার জন্য যেন কোনো ঝক্কি না পোহান এবং আমাদের ট্যাক্স অফিসের সাথে কোনো রকমের ইন্টারঅ্যাকশন দরকার না হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রিফান্ড অটোমেটিক্যালি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ট্যাক্সপেয়ারের অ্যাকাউন্ট, মাঝখানে কিছু নেই।’

আগামী বছর থেকে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন জমা শতভাগ অনলাইন হবে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।