ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমলেও সামষ্টিক অর্থনীতির ভঙ্গুরতা এখনো কাটেনি। তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিরাজমান অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে কমছে আমদানির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির হার।
নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে আমদানি বাণিজ্যের ওপর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গেল মার্চে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ২৬.৬০ শতাংশ। পাশাপাশি নতুন এলসি খোলার হারও কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চে যুদ্ধের কারণেও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে।
আমদানির এলসি খোলা হলেও, পণ্য নিয়ে জাহাজ কবে দেশে পৌঁছাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া যুদ্ধের কারণে ডলারের দামে সম্ভাব্য অস্থিরতার ঝুঁকি এড়ানোর জন্যও অনেকে এলসি খোলেননি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, মার্চ মাসে ব্যাংকগুলো ৪৬৬ কোটি ডলারের এলসি নিষ্পত্তি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬৯ কোটি ডলার কম। একই সময়ে নতুন এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এলসি ব্যাংক তার নিজস্ব বিজনেস স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী স্থাপন করবে। এলসি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি তারাই সেট করবে।’
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন শিল্প স্থাপন ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানিতে ভাটা পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, শিপমেন্টে অনিশ্চয়তায় উদ্বেগে আছেন ব্যবসায়ীরা। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতার ওপর চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা তাদের।