উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি কাটছেই না। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ২০ বছরের মধ্যে মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে - বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৬ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি ও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি খরচের কারণে এডিপি বাস্তবায়ন কমেছে। আগামী বাজেটে বাস্তবায়নযোগ্য এডিপি দেয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বলতে সরকারের একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরের জন্য নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং এর জন্য আর্থিক বরাদ্দকে বুঝায়। পরিকল্পনা কমিশন এই কর্মসূচির মাধ্যমে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ দেয়।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ আইএমইডি-র তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার আগের অর্থবছরের একই সময়ে চেয়ে দশমিক চার-ছয় শতাংশ কম। গেল দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের রেকর্ড গড়েছে চলতি অর্থবছর।
এছাড়া এই ৯ মাসে উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা কম। একক মাস হিসেবে মার্চেও ব্যয়ের হার কমেছে। ধীরগতির কারণে ইতোমধ্যে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে এডিপিতে।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকল্প শুরুর বিলম্ব, তহবিল ছাড়ে জটিলতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার দুর্বলতাই এই ধীরগতির মূল কারণ। এতে বিনিয়োগ কমছে, কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে সরকারের বরাদ্দ ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থবছরের বাকি তিন মাসে সরকারকে এডিপি বাস্তবায়ন করতে হবে প্রায় ৬৪ শতাংশ।