মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে অনেকটা চাপ সৃষ্টি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে বিক্রেতারা। আর দাম বাড়ানোর বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভোক্তাদের ওপর। তাদের অভিযোগ, এমনিতেই বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম চড়া। তার ওপর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সংসার চালাতে গিয়ে। এদিকে অল্প হলেও নতুন দামের তেল আসতে শুরু করেছে বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আজ রাতের মধ্যে আরও সরবরাহ বাড়বে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার পর থেকে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট শুরু হয়। বোতলজাত তেলের সংকট হয় বেশি। এর সুযোগ নেয় বিক্রেতারা।
দাম বাড়াতে সরকারের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করে বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো। সবশেষ গতকাল বোতলের সয়াবিন তেলের দাম বাড়ে প্রতি লিটারে ৪ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯৯ টাকা লিটার আর ৫ লিটারের বোতল ৯৭৫ টাকা।
দাম বৃদ্ধির পর থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন দামের তেলের বোতল দ্রুতই বাজারে আসবে। তবে পুরাতন তেলের বোতল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি জামাল মিয়া বলেন, ‘আজকে সরবরাহ বেড়েছে। আগের চেয়ে বেশি তেল পাচ্ছি পাইকারদের কাছ থেকে।’
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভোক্তারা। অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি কোনো সংস্থার নজরদারি নেই।
তেল কিনতে আসা রোকসানা বেগম বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত। দাম বাড়লে আমাদের তো সমস্যা হয়। সরকার তো কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।’
এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বার্থে সামগ্রিক পণ্যের বাজারে কার্যকর তদারকির তাগিদ ক্যাবের।
ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে, রাষ্ট্রকে জিম্মি করে এই যে দাম বাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। এখানে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বার বার একই ঘটনা ঘটে।’
দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। এর পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে হাতেগোনা ৬টি কোম্পানি।