চট্টগ্রাম বন্দর: গাড়ি আমদানি কমেছে প্রায় অর্ধেক

চলতি বছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি ও খালাস কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। গত বছরের মার্চে রেকর্ড গাড়ি খালাসের পর সর্বনিম্ন খালাস হয়েছে এবারের মার্চে। বিশ্ব অর্থনীতির নেতিবাচক অবস্থা, জ্বালানি সংকট আর ডলারের উচ্চমূল্যে এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের লোকসানে ব্যবসায়ীরা। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য মতে, গত বছর ৩১টি জাহাজে ১৪ হাজার ১৬৪টি গাড়ি আমদানি হয়। সেবছর মার্চে বন্দর থেকে রেকর্ড ১ হাজার ৯৫৯টি গাড়ি খালাস করে আমদানিকারকরা। প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৫৪। তবে চলতি বছরের মার্চে গাড়ি খালাস হয়েছে মাত্র ৪৯৭টি।

বাজেটের আগে গাড়ি আমদানি ও খালাসের চাপ থাকে বন্দরে। তবে এবার আমদানি কমে যাওয়ায় চাপ কমেছে খালাসেও। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রত্যেক মাসে গড়ে সাড়ে ৯০০ এর মতো গাড়ি আমদানি হয়েছে। তবে মার্চে মাস থেকে এটি ড্রপডাউন করেছে। বৈশ্বিক সংকটে অর্থনীতির ওপর চাপ পড়ে। মানুষ স্বাভাবিকভাবে টাকা ধরে রাখতে চায়।’

গাড়ি আমদানিতে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দেন ব্যবসায়ীরা। বছরের শুরুতে আশাব্যঞ্জক হলেও ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর জ্বালানি অনিশ্চয়তা, ডলার সংকটসহ নানা কারণে কমেছে গাড়ির চাহিদা। 

বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। ডলার সংকট, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা সুবিধাজনক না। এলসি, পেমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা ঝামেলায় পড়তেছি। বাজারে ক্যাশ টাকার প্রবাহ কমে গেছে। তাই আমাদের বেচাকেনাও কমে গেছে।’

আসন্ন বাজেটে রিকন্ডিশন গাড়ির আমদানিতে সময়সীমা বৃদ্ধি, শুল্ক কমানোসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।