বিগত সরকারের সময় বড় ধরনের দুর্নীতি ও অপচয় হয়েছে, অর্থনীতিতে সুবিধা নিয়েছে অলিগার্ক বা প্রভাবশালী শ্রেণি। এসব বিবেচনায় বর্তমান সরকার তেমন কোনো মেগা প্রকল্প করবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনে (পিকেএসএফ) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও সবার জন্য অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করাই এ সরকারের উন্নয়ন দর্শন।
অটোমোবাইল থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং, মোবাইল সার্ভিসিং সহ বিভিন্ন খাতে তরুণ জনবলের দক্ষতা উন্নয়নে সারাদেশে কাজ করছে পিকেএসএফ। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ‘রেইজ’ প্রকল্পে ওস্তাদ-শাগরেদ মডেলে ১৫ হাজার সেন্টারে প্রথম পর্যায়ে ২ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হয়েছেন।
রেইজ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধনে জানানো হয়, সারাদেশে আরও ২ লাখের বেশি তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। থাকবে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থাও। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪ বছরে বিনিয়োগ হবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার।
বক্তারা বলেন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে পিকেএসএফের কর্মসূচি বড় ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, ‘বৈদেশিক সাহায্যের পাশাপাশি আমাদের এখানে নিজস্ব কিছু অর্থ দরকার। তা না হলে এটার সম্প্রসারণ অসম্ভব হয়ে যাবে।’
এ সময় অর্থমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা কমিশনের কাছে ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প আছে। পরিবেশগত, অর্থনৈতিক রিটার্ন ও কর্মসংস্থানের বিবেচনা না থাকায় অনেক প্রকল্পই বাদ দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দিনে বিভিন্ন অলিগার্ক এবং পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতির কারণে সাধারণ মানুষ দেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ থেকে বাইরে ছিল। এখন কিন্তু দারিদ্র্য বাড়ছে, এখনো বাড়ছে।’
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। যা তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।।