বিশ্ববাজারে ভালো মানের প্রক্রিয়াজাত প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৩ ডলার বা সাড়ে ৩০০ টাকার বেশি। কিন্তু সাভারের শিল্পপার্ক পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় রপ্তানিতে দাম দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১৩০ টাকা। এছাড়া কোরবানির গরুর কাঁচা চামড়া বিক্রিতে প্রতি বর্গফুটে ৩০ টাকাও মিলছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান উন্নত হলে রুগ্নদশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে এ খাত।
দেশে ১২ থেকে ১৫ বছর আগে কোরাবানির গরুর প্রতি পিস চামড়া বিক্রি হতো ১ থেকে ২ হাজার টাকায়। আকার ও মানভেদে ওঠানামা করতো দাম। এবার ঢাকায় লবণ দেয়া প্রতি বর্গফুট চামড়ার নির্ধারিত দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা।
প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা করে বাড়ানো হলেও্ বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে। লবণছাড়া একেকটি ছোট ও মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর বড় আকারের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দামে।
লবণ ছাড়া কাঁচা চামড়ার বাজারদর:
ছোট গরুর চামড়া (১৬-২০ বর্গফুট): ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা
মাঝারি চামড়া (২১-২৮ বর্গফুট): ৪০০ -৬০০ টাকা
বড় চামড়া (৩০-৪০ বর্গফুট): ৭০০ - ৯০০ টাকা
(প্রতি বর্গফুট চামড়া লবণজাতে খরচ ১০-১২ টাকা)
সরকার ঘোষিত লবণযুক্ত চামড়া ঢাকায় ৬২-৬৭ টাকা বর্গফুট।
রপ্তানির পরিসংখ্যানেও উঠে আসে চামড়া খাতের রুগ্নদশা। ১০ বছর ধরে চামড়া খাতের রপ্তানি এক শ কোটি ডলারের ঘরে আটকা। গত অর্থবছরে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানি হয় ১১৪ কোটি ডলারের। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে এ খাতে আয় প্রায় ৮৮ কোটি ডলার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত না করেই সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরে বাধ্য করায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গবেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডাব্লিউজি) সনদ না থাকায় কম দামে চীনের মত বাজারে ক্রাস্ট চামড়া রপ্তানি করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র শিল্পনগরীর কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করলে, অন্তত ২০টি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতার শর্ত পূরণে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বছরে খরচ দেড় হাজার কোটি টাকা।