চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের আইনি মারপ্যাঁচে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ঝুলে আছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব। এই বিশাল অংকের আটকে থাকা রাজস্ব দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা করতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেলকে লেখা এক চিঠিতে এই জরুরি বিষয়টি তুলে ধরেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান। চিঠিতে এনবিআরের পক্ষ থেকে ঝুলে থাকা রাজস্ব মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন আয়কর সংক্রান্ত মামলাগুলোতে জড়িত করের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ১৬৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আইনি জটিলতার কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের রাজস্ব তহবিলে যোগ হতে পারছে না।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট আটকে থাকা অর্থের একটি বড় অংশই আটকে আছে মাত্র কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মামলায়। শুধু হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন এমন ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আটকে আছে করের ১৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। রাজস্ব ফাঁকি বা কর নির্ধারণের জটিলতায় পড়া এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, জ্বালানি ও নির্মাণ খাতের নামী সব প্রতিষ্ঠান।
এনবিআরের তালিকায় থাকা শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ইউনাইটেড ময়মনসিংহ পাওয়ার, ইউনাইটেড এনার্জি, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংক এবং বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন।
এনবিআর সূত্র জানায়, প্রতি বছরই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই উচ্চ আদালতের রিট ও আপিল মামলাগুলো। অনেক প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিতে বা কর পরিশোধের সময় ক্ষেপণ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। ফলে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে আইনি মারপ্যাঁচে আটকে থাকা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হলে সরকারের তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। তাই অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের বিশেষ উদ্যোগে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে এই রাজস্ব মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।