চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তুলনায় ৫০ শতাংশ বড় হচ্ছে সামনের অর্থবছরের এডিপির আকার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়নের চাহিদা থাকলেও বড় এডিপি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাব রয়েছে। যদিও অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলছেন, নানামুখী সংস্কার ও তদারকিতে বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২ লাখ কোটি টাকা। যদিও অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল, ১০ মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন হার ৪১ শতাংশের ঘরে।
এবার এডিপির আকার বেড়ে দেড়গুণ হচ্ছে। ৩ লাখ কোটি টাকার ব্যয় মেটাতে ঋণের লক্ষ্য থাকছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পরিবহন ও যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো খাতে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির চাপ আছে। সে কারণে বেড়েছে এডিপির আকার। তাদের মতে, এত বড় উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন সক্ষমতা নেই সরকারের।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন,বাজেটে তো হিসাব–নিকাশ করে অংকটা মিলিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য দেখতে হবে নানা বিষয়। সেদিকে মনোযোগ কম দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং আকারের পাশাপাশি বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করার অঙ্গীকারও রাজনৈতিক সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্যে জোর দেয়া হচ্ছে। তার মতে, জনবহুল দেশে উন্নয়ন চাহিদা ও জনপ্রত্যাশাও অনেক বেশি।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আরও বড় হওয়া দরকার, কিন্তু এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নেই; সেজন্য আমরা বড় সংস্কারগুলো হাতে নিয়েছি; যাতে সক্ষমতা বাড়ে, জনবাবন্ধ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি হয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি জিডিপি বাড়ার একটা অংশ।
এবার এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কার্যক্রম বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ থাকছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। মোট প্রকল্প থাকছে ১ হাজার ১৫০টি।



