বাজেট নিয়ে কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এই বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বরাবরই একটু বেশি থাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো- সব মিলিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চাওয়া জীবনযাত্রায় স্বস্তি।  

দেশে কেউ দিন এনে দিন খায়, কেউ পড়াশোনার খরচ নিয়ে চিন্তিত, আবার কেউ লড়ছেন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের সাথে। তাই এবারের বাজেট নিয়ে সবার প্রত্যাশাও ভিন্ন ভিন্ন।

বাজেটে প্রত্যাশা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে এক তরুণী জানান, বাজেটটাকে আরও সুনির্দিষ্ট কিছু খাতে বাড়িয়ে বা কমিয়ে আমাদের বাংলাদেশটাকে আরও উন্নত করা যাবে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাজেহাল নিম্ন-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষ। আসন্ন বাজেটে তেল, চাল ও ডালসহ সব ধরনের খাদ্যদ্রব্যের দাম সহনীয় থাকবে, এমটাই প্রত্যাশা তাদের।

কাঁচাবাজারের বিভিন্ন পণ্যের ওপর দাম কমানো জরুরি বলে জানান মধ্যবয়সী এক ভোক্তা। বাজেটে প্রত্যাশা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মধ্যবয়সী এক নারী বলেন, সাধারণ মানুষ সত্যি খুবই হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমান যুগে যা টাকা পায় সেটা দিয়ে তার চলে না। 

বাজেটকে ঘিরে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশাও কম নয়। মাসিক ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা। 

তৃতীয় লিঙ্গের একজন বলেন, বাংলাদেশে বাজেট এমনভাবে করবেন যাতে এক বছর যদি আমরা ডাউনও থাকি তারপরেও যেন আমরা ঋণমুক্ত হতে পারি। 

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মান উন্নয়ন এবং গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরিতেও গুরুত্ব দেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।

'বেকার ও ছাত্রসমাজের জন্য চাকরির সুযোগ যেন বৃদ্ধি পায়', এমনটাই দাবি এক শিক্ষার্থীর। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান আরেক শিক্ষার্থী।

এদিকে, অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বাড়ানো গেলে কিছুটা পূরণ হবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। 

সিপিডি'র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, 'বেকারত্বের কারণেই তো দারিদ্র বাড়ছে, বৈষম্য বাড়ছে...এই যে ব্যয়গুলো হবে, এই ব্যয়ের একটা বড় অংশ উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগমুখী হতে হবে, যাতে কিনা কর্মসংস্থানটা বাড়ে। এভাবে আপনাকে মুল্যস্ফিতির চাপটা সামাল দিতে হবে। এই পলিসিটার মাধ্যমে।' 

এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। তবে আকার যতই বড় হোক না কেন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে বাজেটের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। তাদের চাওয়া বাজারে স্বস্তি, নিরাপদ কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা।