চলতি অর্থবছর থেকেই তিন ধাপে নবম কমিশন অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মূল বেতন কমপক্ষে ৫০ ভাগ বাড়তে পারে। এজন্য বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
এই অতিরিক্ত খরচের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রাখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ালে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
প্রায় এক যুগ পর সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। চলতি বছরের শুরুতে কমিশন ২০ তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কমিটি করে। তাদের সুপারিশ আমলে নিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছর মূল বেতনের কমপক্ষে ৫০ ভাগ বাড়ছে, বাকিটা বাড়বে ২০২৭-২৮ অর্থবছর, পরের অর্থবছর থেকে পাবেন বাড়তি ভাতা। এবারের বাজেটে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তার বেতন ভাতা খাতে বরাদ্দ থাকতে পারে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা।
দেশে কর-জিডিপি অনুপাত যখন সাড়ে ৬ শতাংশে নেমেছে, তখন পে কমিশন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন খাতে খরচের চাপ বাড়ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি অভ্যন্তরীন ঋণ আরো বাড়াতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকারের যে বেতন স্কেল সেটা ২০১৫ সালের পর আর রিনিউ হয়নি। সেটা আপডেটেড হয়নি, সুতরাং এটা চাহিদা ছিল। এটা ভালো যে তারা ধাপে ধাপে করছেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়তে পারে।
নবম পে কমিশন বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশ এবং অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে। বেতন-ভাতা বাড়াতে কমিশনের পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে বাড়তি দরকার ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।