বিদেশি 'বাইকুনুর' জাতের আঙুর চাষেই বাজিমাত। তিন বিঘা জমিতে মাত্র ৬ লাখ টাকা খরচে এক বছরে আয় হয়েছে ২১ লাখ টাকা। এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহীর বাগমারার উদ্যোক্তা ঈমাম হাসান। তার বাগানের বাহারি রঙের আঙুর নজর কাড়ছে সবার।
বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজ লতায় থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, কালো আর সবুজ রঙের আঙুর। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামে দেশের মাটিতেই গড়ে উঠেছে এই বিদেশি জাতের আঙুর বাগান। বাবার অনুপ্রেরণা আর নিজ উদ্যোগে ২০২৫ সালে ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জাতের চারা এনে সিডলেস আঙুরের এই বাগান গড়ে তোলেন ঈমাম হাসান। আশপাশের এলাকা থেকে অনেকেই দেখতে আসছেন বাগানটি। কেউ কেউ নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।
ইমাম হাসান জানান, একদিন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে আঙুর চাষে সফল এক কৃষকের প্রতিবেদন দেখে বাবার আগ্রহ জন্মায়। বাবা বিষয়টি নিয়ে তাঁর (ইমাম হাসান) সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে আঙুর চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালে পানের বরজ ভেঙে সেখানে আঙুরের চাষ শুরু করেন। পরে আরও এক বিঘা জমি যুক্ত করে মোট তিন বিঘা জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন।
৪০০ গাছের এই বাগানে আঙুর হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কেজি, যার বাজারমূল্য ২১ লাখ টাকা। কৃষি গবেষকরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা আর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে আঙুর রপ্তানিমুখী পণ্যে পরিণত হবে। কৃষি অধিদপ্তরও বলছে, আঙুর চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ আঙুর আমদানি করেছে প্রায় সাড়ে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন, রপ্তানি শূন্য। এই খাতকে সম্প্রসারিত করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।