এবারের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রণোদনা থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ কর্মীরা। এমন উদ্যোগ বাংলাদেশকে নিম্ন-কার্বন জ্বালানির দেশে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনায় তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট রোড ম্যাপ তৈরি করতে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপদনে সক্ষম হতে চায়। আশা করা হচ্ছে, এর মধ্যে বিশ ভাগ আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭.৩৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ এর বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা- শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রণোদনার ফলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২৫-৩০ ভাগ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।’
ইইউর জ্বালানি ও পরিবেশ প্রোগ্যাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পর্যাপ্ত জমির অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, নিউক্লিয়ার জ্বালানিও হতে পারে একটি উত্তম বিকল্প। তাই তবে সবার আগে দরকার একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।’
তবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়রাম্যান জালাল আহমেদ দাবি করেছেন, সৌরবিদ্যুত প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গায় অভাব নেই।
আলোচকরা মনে করেন, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর মুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৌর প্যানেল, ইনভাটা, ব্যাটারি, চার্জ কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত শুল্ক মুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।