এবারের বাজেটে, স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা আসায় অনেকটাই স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্বর্ণ ও গয়না কেনাবেচায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের বদলে, ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ক্রেতাদের খরচ কমবে। তবে ব্যক্তিগত স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে নতুন করের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই দেশে স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এরপর বৈশ্বিক নানা সংকটে এ ধাতুটির দাম প্রায়ই ওঠানামা করতে দেখা যায়। এ অনিশ্চয়তায় স্বর্ণ কেনায় দ্বিধায় পড়েন ক্রেতারা।
এমন বাস্তবতায় বাজেটে, স্বর্ণের কর ও ভ্যাটে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার সুবিধা পাবে সাধারণ ক্রেতারা। গয়না কেনায় তাদের খরচ অনেকটাই কমবে।
বাজেটে স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভরিতে খরচ কমবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর, উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেশি আলোচনায় এসেছে, বাজেটে ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রির ওপর নতুন কর। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, মূল্যবান পাথরসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে সেই মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুসের মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থা চালু হলে স্বর্ণালংকারের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, পাশাপাশি ক্রেতাদের ব্যয়ও কমবে।’
বাজেটে জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি এবং অলঙ্কার রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বন্ডেড ওয়্যার হাউস পদ্ধতির আওতায় নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।