বিগত সরকারের সময় বিমাকে কমিশন ব্যবসার খাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তীব্র আস্থার সংকটে পড়েছে বিমা খাত। দীর্ঘদিন ঘুরেও বিমার টাকা তুলতে পারছেন না অনেক গ্রাহক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর তথ্যমতে, ২০২৫ সাল শেষে বিমা খাতে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘একসময় বিমা খাতে কোনো কার্যকর রেগুলেটরি ওভারসাইট ছিল না। ফলে এটি এমন একটি খাতে পরিণত হয়েছিল, যেখানে কিছু ব্যক্তি সাধারণ বিমা ও পুনর্বিমা (রিইন্স্যুরেন্স) প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা নিতেন।’ তিনি জানান, একটি বিমা কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ খাতের নানা দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করেছেন।
এ সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বিমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিমাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি— এই তিন স্তম্ভকে সামনে রেখে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিমা দাবি নিষ্পত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সরকারের কাছে এককালীন বেইলআউট প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। পাশাপাশি বিমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তরের ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে আইডিআরএ জানিয়েছে, বিমাকারীদের নগদবিহীন (ক্যাশলেস) লেনদেনে উৎসাহিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গাইডলাইন তৈরি করবে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, স্বল্পমেয়াদি লাভের চেষ্টায় পথ হারিয়েছে এই খাত— এখন এটিকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।