দেশে ৩০ ভাগ আম অপচয় হচ্ছে, প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনের তাগিদ

পাকা আমের রস বা পিউরি দিয়ে তৈরি হয় জুস আর আইসক্রিম, কেক। আবার শুকনো আমের গুড়ার দরকার হয় বিভিন্ন রকম স্ন্যাক্স, চাটনি ও টফি তৈরিতে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে আমের তুলনায় এমন আমজাত পণ্যের রপ্তানির সুযোগ অনেক বেশি। প্রতি মৌসুমে দেশে উৎপাদিত আমের প্রায় ৩০ ভাগ নষ্ট কিংবা অপচয় হচ্ছে। তাই আমের প্রক্রিয়াজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।

মে মাস থেকে বাজারে উঠতে থাকে আম। প্রজাতি ভেদে তা বাজারে থাকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপর আবার নতুন প্রজাতির কাটিমন ও বারি–১১ আম আসে শীত মৌসুমে। 

এবছর আম উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮ লাখ টন। যার ২৫ থেকে ৩০ ভাগই হয় নষ্ট নাহলে অপচয় হচ্ছে। 

নওগাঁর সাপাহারে আমের গ্রেডিং, সর্টিং ও শোধন কেন্দ্রে চলছে কাঁচা-পাকা আম শুকানোর কাজ। প্রক্রিয়াজাত আম ব্যবহৃত হয় দেশের জুস, বেকারি, আইসক্রিম, দই ও ফুড প্রসেসিং শিল্পে। তবে দেশে আম প্রক্রিয়াজাত করার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় বিদেশ থেকেই এসব কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। 

উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, হাজার কোটি টাকার ওপরে আম নষ্ট হয়। এর একটা অংশ যদি আমরা প্রসেসিং করতে পারি এবং রপ্তানির ব্যবস্থা করতে পারি– বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে শুকনো আম বা ম্যাংগো বার আমদানি হয়। আমাদের প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়।   
       
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুর অঞ্চলে আমের উৎপাদন বাড়ছে। মৌসুমে অনেক কম দামেই পাওয়া যায় আম। যা প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য বড় সুবিধা।

উদ্যোক্তা তারেক রহমান বলেন, আশ্বিনা আম বাজারে ৭ হাজার–৮ হাজার টাকা মণও বিক্রি হয়। অথচ প্রান্তিক চাষী পর্যায়ে বারোশো থেকে তেরোশো টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। ওই সময় যদি এই আমটাকে আমরা শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে পারি, তাহলে ভালো বাজার হবে।  

প্রক্রিয়াজাত আম থেকে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস দেশে বিদেশে বেশ জনপ্রিয়। যদি প্যাকেজিং আরো উন্নত করা যায়, তাহলে উচ্চমূল্যের বাজারেও মিলতে পারে স্থান। 

রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আরিফ রহমান বলেন, দামটা যদি কম থাকত আপনি হয়তো দুই কেজি কিনতেন। হয়তো তিন কেজি কিনতেন। এমন হলে আপনি তিন কেজি আস্তেধীরে খেলেও পঁচে যেত না। এখন কিন্তু আম পঁচছে। প্রতি পরিবারেই এমন হচ্ছে। আমার মনে হয় দেশের বাজারে চাহিদা অনুযায়ী আম পর্যাপ্ত রয়েছে। এটাকে আমরা কিছু যদি প্রসেসিংয়ে দিতে পারি, রপ্তানি করতে পারি তাহলে চাষীরা লাভবান হবে। 
   
উদ্যোক্তা ও গবেষকরা বলছেন, সোলার প্যানেল-চালিত যন্ত্রে আমের প্রক্রিয়াজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাহাড়ি এলাকায় এমন সুযোগ তৈরির বাড়ানোর দাবি তাদের।