চাপে নয়, প্রয়োজনেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। দরকারে ফ্রান্স থেকে এয়ারবাসও কেনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তবে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ক্ষমতা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়, আস্থার ভিত্তিতে বাণিজ্য চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিনিয়োগের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বাংলাদেশে আসেন ২০২৩ সালে। সে সময় ফরাসি প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দেয় ঢাকা।
তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। যে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয় বিএনপির সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস পর।
তবে দেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় সমতা। শুধু উড়োজাহাজ নয়, বাণিজ্য-বিনিয়োগের সব খাতেই স্বচ্ছতা ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা। আর ঢাকা বলছে, চাহিদা থাকলে সব পক্ষ থেকেই নেওয়া হবে পণ্য।
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ‘গত ৩০ বছর ধরে ফ্রান্স ও ইউরোপ বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত অংশীদার। তাই আমরা অন্তত সমান সুযোগ-সুবিধা আশা করি। আমরা কাউকে ক্ষমতা, ভয়ভীতি বা হুমকি দেব না। সেটি আমাদের কাজের ধরন নয়। আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের ট্যুরিজম, সিভিল অ্যাভিয়েশনকে তো আর উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। যা যা প্রয়োজন সেগুলো আমাদের ক্রয়ও করতে হবে। আমাদের বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার। দুটোই আমরা ক্রয় করব।’
বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থই সবচেয়ে আগে দেখা হয়। যে আইন হয়েছে সেটা আমাদের বিনিয়োগকেই আরও ত্বরান্বিত করবে। সব দেশকেই কিন্তু আমরা স্বাগত জানাচ্ছি বিনিয়োগ করার জন্য।’
সদ্য পাস হওয়া ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইনে, বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার বিধান রাখা হয়েছে।