যেসব কারণে আবাসন খাতে মন্দা 

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। সেই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর আকাশছোঁয়া দাম এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে কমছে ফ্ল্যাটের বেচাকেনা। আবার, জমির মালিকের ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত করারোপের কারণে ডেভেলপারকে জমি দিতে আগ্রাহী হচ্ছেন না মালিকরা। ফলে চাপে পড়ছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরাও।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর ওপর করহার বাড়িয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে।

ঢাকা ভূমি মালিক সমিতির সভাপতি, দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ জানান, বাজেটে রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য ভবন নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় ডেভেলপার কোম্পানিগুলো ফ্ল্যাটের মূল্যের সাথে সমন্বয় করছে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।  

এদিকে রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, গৃহঋণের সুদের হার ১৪ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। এতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে গেছে। ফলে ফ্ল্যাট বুকিং ও বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

আবাসন খাতের সংকট উত্তরণে নীতি সহায়তার পাশাপাশি ক্রেতাদের স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের সুযোগ দেয়ার তাগিদ ব্যবসায়ীদের। এছাড়া ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বাতিল ও আবাসন খাতে কর নীতি ৫ বছর পর পর করার পরামর্শ তাদের।