গ্যাস পেতে নতুন ও প্রতিশ্রুত দেড় হাজারের বেশি শিল্প গ্রাহকের আবেদন পড়ে আছে তিতাসে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। জ্বালানির সংযোগ পেলে, বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হতে পারে কয়েক লাখ মানুষের।
দেশে বিদ্যুৎ-শিল্প, রান্নার চুলা, যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। অথচ সরবরাহ নেমেছে ২৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে। এরমধ্যে স্থানীয় গ্যাসের উত্তোলন ১৭০ কোটির ঘরে, আর আমদানির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি ১০০ কোটি ঘনফুট।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী জানান, শিল্পখাতে গ্যাসের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমছে। আবার যন্ত্রপাতি আমদানি করে নতুন কারখানা স্থাপন করে বসে আছেন অনেকেই। গ্যাসের অভাবে শিল্পের সক্ষমতা সম্প্রসারণও থেমে আছে। সবচেয়ে বড় বিতরণ সংস্থা তিতাসে নতুন সংযোগ ও প্রতিশ্রুত গ্রাহকের আবেদনের চাহিদা পূরণে দরকার প্রায় ৭৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জানান, শিল্পখাতে সরবরাহ বাড়াতে গ্যাসের সিস্টেম লস ১১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে নামানো এবং রান্নার চুলায় ধাপে ধাপে গ্যাস বন্ধের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইসঙ্গে নতুন করে গ্যাস নির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, শিল্প ও বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। গত দেড় বছরের জ্বালানি মন্ত্রণালয় মাত্র ২৫ টি শিল্প সংযোগে গ্যাস কমিশনিং বা সরবরাহ অনুমোদন করেছে। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে কয়েকটি রিগ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।