বিনা বাধায় প্রবেশের ক্ষমতা নিয়ে এনবিআরের নির্দেশনা, উদ্বেগ ব্যবসায়ীদের

উৎসে কর আদায় ও তদারকি জোরদারে কর কর্মকর্তাদের যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনা বাধায় প্রবেশ ও সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যবসা সহজীকরণের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অর্থনীতিবিদদেরও মত, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন নিশ্চিত না হলে করদাতাদের ভোগান্তি যেমন বাড়বে, তেমনি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও কঠিন হয়ে পড়বে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন করদাতা শনাক্ত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আয়কর পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার কৌশল নিয়েছে এনবিআর।

তবে সম্প্রতি কর আদায়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি। গত রোববার জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের কর অঞ্চলগুলোর বিশেষ টিম উৎসে কর কর্তন তদারকি ও যাচাই কার্যক্রম জোরদার করবে। এ লক্ষ্যে কর কর্মকর্তাদের জন্য পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে বিনা বাধায় প্রবেশ করে সরেজমিনে পরিদর্শনের ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ নির্দেশনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, উৎসে কর তদারকির নামে উদ্যোক্তাদের অহেতুক হয়রানি করা হলে ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএএমএ) সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পা‘রস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এর বিপরীত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, রাজস্ব কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যেতেই পারেন, তবে তা যেন ঢালাওভাবে না হয়। সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এনবিআরের কাজ করা উচিত।’

অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, ‘এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। এতে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং দুর্নীতির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।’

অনেকের মতে, কর প্রশাসনে অটোমেশন ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতিতে গতি আনতে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।