জাতীয় কেমিক্যাল নীতি চান ব্যবসায়ীরা 

রপ্তানিমুখী শিল্পে আমদানি নির্ভরতা কমাতে জাতীয় কেমিক্যাল নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার। শনিবার মতিঝিলে আয়োজিত এক সেমিনারে ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন খাতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিক বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ নির্ভরতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি চারটি সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তারা। 

দেশে রাসায়নিক নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-ডিসিসিআই। এতে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের প্রায় সব রপ্তানিমুখী শিল্পের রাসায়নিকের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে রাসায়নিক খাতের অভ্যন্তরীণ বাজার ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের। যার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের রাসায়নিক শিল্প বিকশিত হচ্ছে না। বিশেষ করে উচ্চ শুল্ক কাঠামো, এইচএস কোডের জটিলতা, বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত গুদামের অভাব রয়েছে। 

ট্যানারি মালিক সমিতি সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা খুবই প্রয়োজন। যে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে পারবেন না; আমার কারখানায় উৎপাদন আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। মাননীয় জ্বালানিমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি, তিনি বলেছেন ভোলা থেকে এলএনজি করে এনে আমাদের গ্যাস দেবেন। কিন্তু কবে দেবেন?

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ম্যানুফেকচারিং সেটাপ দরকার। 

সেমিনারে খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাসায়নিক শিল্পে আমদানি নির্ভরতা কমানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এসময়, এ খাতে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলার আশ্বাস দেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সদস্য। 

বিসিএসআইআরের সদস্য আব্দুল ফাত্তাহ মো. বালিউর রহমান বলেন, লোকাল যে সোর্সগুলো আছে সেগুলোকে কীভাবে আমরা মবিলাইজ করতে পারি এবং এখানে কীভাবে ভ্যালু অ্যাড করা যায়। আমরা যেগুলো আমদানী করা হয় সেগুলোর বিকল্প তৈরি করতে পারি। সেগুলে নিয়ে কাজ করছে বিসিএসআইআর। 

টেকসই উন্নয়নে রাসায়নিক খাতে আধুনিক গবেষণার তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টরা।