ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য ১৪টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার শঙ্কা জানিয়ে রিজার্ভ খরচে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আর এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবসায়িক লাভের পরিকল্পনা থাকতে হবে।
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ১৪টি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ। এতে খরচ হবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০৩১ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বিমানের বহরে। এছাড়া, ফ্রান্স থেকেও কিনতে যাচ্ছে ১০টি এয়ারবাস। যার দাম এখনও নির্ধারণ হয়নি।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ২৪টি উড়োজাহাজ কেনার কারণ দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের শঙ্কা, কেবল ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য রিজার্ভে হাত দেওয়া অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘এটি ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে, এর জন্য বাংলাদেশ কি ব্যালেন্স করতে পারবে? যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। এই মূহূর্তে ধীরে ধীরে যে রিজার্ভটা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটি যদি এই কাজে ব্যবহার করি তাহলে আমাদের অবস্থাটা কী হবে? আমাদের তো কেউ এসে অর্থ দিয়ে যাবে না।’
তবে কিছুটা ভিন্ন মত এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, উড়োজাহাজ কেনার আগে পরিচালন প্রক্রিয়া ও ব্যবসায়িক মডেল থাকা জরুরি। নতুন নতুন রুট খুঁজে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরামর্শ তাদের।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যদি ১৪ থেকে ১৫টি এয়ারবাস কিনে ফেলে রাখি তাহলে অবশ্যই আমরা বিপদে পড়ব। যতটা এয়ারবাস আসুক না কেন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করে আয় এবং লোন পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।’
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশের ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। যার মধ্যে ১৪টি জেট বিমান ১৭টি দেশের ২৫টি এয়ারপোর্টে চলাচল করে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিমান লাভ করে ৭৮৫ কোটি টাকা। যদিও জ্বালানির বিল, ঋণ, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্য অনেক আর্থিক দায় রয়েছে সংস্থাটির।