তীব্র গ্যাস সংকটে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না ঢাকার সাভারের ট্যানারিগুলোতে। চালু করা যাচ্ছে না মেশিনপত্র। বাধ্য হয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন মালিকরা। কিন্তু এখনো মেলেনি কোনো সমাধান। এতে বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশে পণ্য সরবরাহ নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় রপ্তানি আদেশ বাতিলের শঙ্কায় অনেকে।
সম্প্রতি সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সালমা ট্যানারিতে দেখা যায়, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে পশম ছাড়ানো পশুর চামড়া। গ্যাসের অভাবে পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। বেশির ট্যানারিতে একই চিত্র।
গ্যাসের অভাবে বেশিরভাগ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। অনেকে কাজ করছেন সনাতন পদ্ধতিতে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় নিয়মিত বেতন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় শ্রমিকরা। মালিকদের অভিযোগ, শিল্প মন্ত্রণালয়ে বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না। বাতিল হচ্ছে অনেক রপ্তানি আদেশ।
ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কাস্টমাররা যদি এখান থেকে চলে যায়, তাহলে এদের ফিরিয়ে আনা খুবই কষ্ট হবে। উৎপাদন বন্ধ, আমাদের গ্যাসের প্রয়োজন। এই সেক্টর বাঁচাতে হলে অতিদ্রুত গ্যাস দেওয়া দরকার।
শিল্প সচিবের দাবি, গ্যাস সংকট সমাধানের দায়িত্ব জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় গ্যাস দেবে, তাদের সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। আমরা তাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বলছি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যানারি শিল্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারলে তা সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ তাদের।
লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সাবেক অডিটর আফজাল হোসাইন বলেন, জ্বালানির নিশ্চয়তা সমন্বয় করতে পরলেও বিদেশি বিনিয়োগ, দেশি উৎপাদন, আমাদের অর্থনীতি সব ঠিক থাকবে। অর্থনীতির চালিকা শক্তিই জ্বালানি। দ্রুত সমন্বয় দরকার।
চামড়া শিল্প নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতে সৌর বিদ্যুতে জোর দেয়ার আহবান খাত সংশ্লিষ্টদের।



