গত দুই সপ্তাহের গ্যাস সংকটে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে শিল্প মালিকদের।
ব্যবসায়ীদের দাবি, চলতি মূলধন না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা। এ অবস্থায় আস্থা ধরে রাখতে ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করছে শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে কারখানার সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ১০০টি। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০টি পোশাক কারখানা। ছোট-বড় কারখানাসহ জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার অনিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। গাজীপুরসহ আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর অনেক এলাকায় কারখানার উৎপাদন অনেকটাই গ্যাসনির্ভর। তীব্র গ্যাস সংকটে এসব এলাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।
তীব্র গ্যাস-বিদ্যুতের এমন সংকটে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে পুরোপুরি বন্ধ না করে রেশনিং ব্যবস্থাও চালু রাখা হয়েছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে প্রায় অর্ধেকের মতো। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বিজিএমইএ।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ'র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, 'সরকারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, আগামী ৮-৯ তারিখ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আর্থিক ক্ষতির চেয়েও আমরা বেশি চিন্তিত যে, ক্রেতাদের আস্থা যাতে নষ্ট না হয়। আমাদের সামনে এখন এই চ্যালেঞ্জ আছে, (কিন্তু) এই চ্যালেঞ্জতো সারা জীবন থাকবে না। সরকার তো বলেছে, আমাদেরকে দুই বছর সময় দেন, আমরা এই এনার্জি ইস্যুর সমাধান নিয়ে আসব।'
গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিং সহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানা। চলতি মূলধন না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে টেক্সটাইল মিল মালিকরা।
বিটিএমএ'র প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আমাদের যে গ্যারান্টিগুলো দরকার তার মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের বিদ্যুৎ দরকার, গ্যাস দরকার, এবং আমাদের নতুন করে অর্থায়নও করতে হবে সরকারকে, যাতে আমরা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পাই, কাঁচামাল কিনতে পারি, ফ্যাক্টরি আবার চালু করতে পারি।
এদিকে গত জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।