নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর কোড নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের এক তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় ২ কোটি আমানতকারী এখন বিপাকে।
দেশের বাজারে ডিজিটাল পেমেন্টে বাংলা কিউআর কোডের ব্যবহার বাড়ছে দ্রুততার সাথে। এক্ষেত্রে নগদ টাকা হাতে না থাকলেও কেনাকাটায় বাধা নেই ক্রেতাদের। একটি স্ক্যান, কয়েক সেকেন্ডেই সম্পন্ন লেনদেন। তাই সুপার শপ থেকে শুরু করে পাড়ার মুদি দোকান, এমনকি চায়ের দোকানেও জনপ্রিয় হচ্ছে বাংলা কিআর কোডে লেনদেন ।
বাংলা কিউআর সেবা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তারা জানান, ছোট লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে করলে, সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। আর এই মাধ্যমে লেনদেন বাড়াতে সবার মানসিকতার পরিবর্তনে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যাংকরারা।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশামুল হক খান জানান, শুধু একটি স্মার্টফোন আর ডেটা ব্যবহার করে আমরা ছোট ছোট লেনদেনগুলো যদি নিজেরা উদ্যোগী হয়ে ডিজিটালি করি তাহলে সমাজ ব্যবস্থাটা ডিজিটাল এবং ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে সামনে এগিয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ ৩৬ শতাংশ, যা এ খাতের জন্য অশনি সংকেত। তবে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন দুইটি আইন প্রণয়নসহ ১৮ মাসের একটি উদ্যোগের কথাও জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে কেউ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে এখন থেকে তাকে সবোর্চ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, 'দেশকে যে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়ে যাওয়া যায়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংকিং সেক্টরের পুরো ডিপোজিটের এক-তৃতীয়াংশ লুট করে নিয়ে গেছে, এটা চুরি। এটা কোনোভাবেই নন-পারফর্মিং লোন না, যেটা আমরা অ্যাকাউন্টিংয়ের ভাষায় এনপিএল বলছি।'
এসময় গর্ভনর বলেন,বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি নেই। তবে বর্তমান সরকার কর্মসংস্থান তৈরিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চালু করেছে। এছাড়া জুলাই বিপ্লবীদের সহায়তায় উপজেলা পর্যায়ে সারা দেশ থেকে ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে বলেও জানান গর্ভনর।
বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন জনপ্রিয় করতে ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেওয়া হলেও বড় ব্যবসায়ীদের নিজ থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন গর্ভনর।