মহেশখালীর দুই টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ কমেছে, ঘাটতির শঙ্কা

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে স্থাপিত সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে দুই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৫০০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ৫০০ থেকে কমে প্রায় ২০০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে। সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে আমদানিকৃত একটি এলএনজিবাহী জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যাওয়ায় টার্মিনালে গ্যাসের চাপ কমে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ আগস্ট অপর একটি এলএনজিবাহী জাহাজ আসার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগেই সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর অপর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আংশিক মেরামতের পর ৬ আগস্ট থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হলেও বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ ঘনমিটার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। অথচ টার্মিনালটির স্বাভাবিক সক্ষমতা দৈনিক ৫৫০ থেকে ৬০০ ঘনমিটার। 

দুটি টার্মিনাল থেকেই একসঙ্গে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।