অর্থবছরের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এতে অর্থবছরের শুরুতেই এপ্রিল থেকে অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্ষার আগেই উন্নয়নকাজ শেষ করতে পারলে, কমবে অর্থের অপচয়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থবছরের সময় বদলানোর ফলে ব্যাংকিং ও বেসরকারি খাতের হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন কাজ হয়, তার প্রায় ৫০ ভাগই বাস্তবায়ন হয় অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে, অর্থাৎ এপ্রিল-জুন সময়ে। শেষ সময় তড়িঘড়ি করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কাজের মান ঠিক রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে। অনেক সময় বর্ষার কারণে কাজ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে তৈরি হয় জনদুর্ভোগ ।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ করতে বদলে যাচ্ছে অর্থবছরের প্রচলিত সময়সূচি। ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের পরিবর্তে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। তবে এই পরিবর্তনের আগে, আগামী অর্থবছর শেষ হবে জুলাই থেকে মার্চ, অর্থাৎ ৯ মাসে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিপিডি'র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, '...আমাদের এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বা চলতি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবকাঠামো সংক্রান্ত যে খরচগুলো আছে তার গুণগত মান বৃদ্ধি পেতে পারে।'
সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশও বদলাতে হবে। এই যেমন করব্যবস্থা ও কোম্পানির হিসাবের সঙ্গে নতুন অর্থবছরের সামঞ্জস্য করতে হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে কৃষি উৎপাদন চক্র ও বিনিয়োগ বিবেচনায় নিলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, 'এখন যখন এপ্রিল মাসে শিফট করছি তখনও কিন্তু একটা অপ্রাসঙ্গিকতা (অসামঞ্জস্যতা) রয়ে যাচ্ছে। কারণ ব্যাংকিং সেক্টরের (সময়) জানুয়ারি-ডিসেম্বর রয়ে যাচ্ছে, (অথচ) আমাদের সরকারের অর্থবছরের সময়কালটা এপ্রিল-মার্চ হয়ে যাচ্ছে। এবং এটার মধ্যে কিছু লিগ্যাল এবং ডিজিটালাইজেশনেরও কিছু চ্যালেঞ্জ চলে আসবে।'
করবর্ষ ও অর্থবছর এক হওয়ায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর গণনার সময় বদলে যাবে। এখন জুলাই-জুন সময়ের আয়ের ওপর কর দিলেও, নতুন ব্যবস্থায় এপ্রিল-মার্চ সময়ের ওপর ভিত্তি করে রিটার্ন জমা দিতে হবে।