রাজধানীর সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। চালকদের অপেক্ষার সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে এখনও পুরোপুরি মিলছে না চাহিদামতো গ্যাস। ভাসমান ২টি এলএনজি টার্মিনাল সচল হলেও সক্ষমতার পুরোটা সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা এলএনজির কার্গো সময়মত না আসায় পুরোপুরি কাটছে না সংকট।
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর আশেপাশে গত একমাস ধরেই দেখা যাচ্ছে গ্যাসের (সিএনজি) জন্য অপেক্ষমান যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। গ্যাসের চাপ না থাকায় টানা ২ সপ্তাহের বেশি দিনের অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে গ্যাস বিক্রি। তবে আজ মঙ্গলবারের চিত্র ছিল কিছুটা স্বস্তির। আগের চেয়ে কমে এসেছে চালকদের অপেক্ষার সময়। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই গ্যাস পাচ্ছেন তারা। তবে সেটা চাহিদার অর্ধেক।
ভুক্তভোগী এক সিএনজি অটোরিক্সা চালক জানান, এক দেড় মাস ধরে এভাবেই চলতেছি। কখনও কোনো পাম্পে ৮০ টাকার গ্যাস পাই। এই যেমন এখানে মাত্র ৯১ টাকার গ্যাস পেয়েছি। গ্যাস পেয়ে এক প্রাইভেটকার চালক জানান, 'এই এখন পেলাম ৩৭০ টাকার গ্যাস। এতে হয়তো ৩০-৩৫ কিলোমিটার চলবে।'
গ্যাসের প্রেশার কখনও কম, কখন বেশি। ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রম চলছে এভাবেই। রাজধানীর এক ফিলিং স্টেশনের কর্মী জানান, দুই ঘন্টা গ্যাস দেওয়ার পর প্রেশার নেমে গেলে আবার দুই ঘন্টা লাগে প্রেশার উঠাতে। এভাবেই গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, একেবারে বন্ধ থাকে না।
গ্যাসের জন্য দিনে দুই বার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে চালকদের। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা। দূরপাল্লার যাত্রায় জ্বালানি না পাওয়ায় বিপাকে ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালকরা।
ভাড়ায়চালিত এক ট্যাক্সিচালক জানান, কোথায় যাত্রী নিয়ে গেলে আমরা আতঙ্কে থাকি যে যাত্রীকে নামিয়ে আবার গ্যাস কোথায় পাব, গাড়িতে যে গ্যাস আছে সেটা দিয়ে ফিরতে পারব কিনা।
'সব মিলিয়ে ভাড়া পেয়েছি ৫ হাজার টাকা, তেলের পেছনেই খরচ হবে ৩ হাজার টাকা, তাহলে আর থাকবে কত টাকা,' প্রশ্ন আরেক ভুক্তভোগী ট্যাক্সিচালকের। চাপ কম থাকায় মূল লাইন থেকে গ্যাস টেনে রিজার্ভ করে এক-দুই ঘন্টার বিরতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে স্টেশনগুলোকে।
৫-৭ ঘন্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাওয়ার মতো ঘটনা হয়তো নেই। কিন্তু চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ গ্যাস পেতেও ২-৩ ঘন্টার মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে এখনও। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অপেক্ষা করতে হবে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত।
পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, সোমবার এলএনজি সরবরাহ ছিল সাড়ে ৬শ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশিয় গ্যাসসহ গ্রিডে মোট সরবরাহ ছাড়ায় ২ হাজার ২শ মিলিয়ন ঘনফুট। এখনো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঘাটতি ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
মুঠোফোনে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, 'যেগুলো শিডিউলে ছিল, সেগুলো ক্যানসেল হওয়াতে আমরা আবার টেন্ডার করে গতকাল ওপেনিং করেছি। এটা ৪টার জন্য করেছিলাম, এখন ৪টা পেয়েছি কিনা, না পেলে আবার করবে টেন্ডার। ডিপিএম-এর গুলোই বলছি যে বাতিল হয়েছে। এখন আমরা আবার টেন্ডারে যাচ্ছি।'
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে কাতারের গ্যাসপ্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি সরবরাহ। অন্য উৎস থেকে জি-টু-জি চুক্তিতে মাসে ১ টি কার্গো আসে। খোলাবাজার থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে মাসে ৭ থেকে ৮ কার্গো।



