গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে, বড় ও মাঝারি কারখানাগুলোর ছাদে অন্তত ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডির এক মতবিনিময়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এসময়, অর্থায়ন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা় এড়ানোর তাগিদ দেন বক্তারা।
তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প। উৎপাদন নেমেছে ৩০-৪০ ভাগ। রপ্তানিবাজার হারানোর ঝুকিতে অনেক উদ্যোক্তা। সময়মতো শ্রমিকের বেতন, ঋণ, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল পরিশোধেও চাপে পড়ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে মতবিনিময়ে গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলছে, দেশে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে চাহিদার ১৪ ভাগ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মিলতে পারে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ। তবে, নানা জটিলতায় প্রকল্প প্রস্তাবের ৭০ শতাংশ চুক্তি পর্যন্ত পৌঁছায় না।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প খাত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের মধ্যে রয়েছে। অনেক আগে থেকেই শিল্প কারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে বর্তমান সংকট আরও কমানো সম্ভব হতো। পোশাক খাত ধীরে ধীরে রুফটপ সোলারের দিকে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ।’
হা-মীম গ্রুপের জ্বালানি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা তনুল চক্রবর্তী বলেন, ‘বর্তমানে শিল্প কারখানায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। সংকট সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছার অভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অগ্রগতি কম।’
অনুষ্ঠানে নেট মিটারিং পেতে দীর্ঘসূত্রতা, সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানি পর্যায়ে কাস্টমস এর হয়রানিসহ উঠে আসে নানা অভিযোগ।