জ্বালানি আমদানি কমিয়ে কূপ খননে বিনিয়োগের তাগিদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজার থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে ভর্তুকির চাপ ও গ্যাস সংকট। অর্থবছরের ২ মাসের কম সময়েই এ খাতে ভর্তুকি ছাড়িয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘসময় এমন অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয়ার সক্ষমতা নেই অর্থনীতির। দেশীয় গ্যাস কূপ খননে বিনিয়োগ বৃদ্ধির তাগিদ তাদের।

দেশের সিরামিক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্পে জ্বালানি সংকট চলছে কয়েকবছর ধরেই। গত এক-দেড় মাসে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনরাতের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস সরবরাহ মিলছে না। এতে বন্ধ থাকছে শিল্পের চাকা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। 

বিকেএমইএ'র পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, 'টেক্সটাইল ইনডাস্ট্রিগুলো কিন্তু ২৪ ঘন্টা চলে। তো দেখা যায় যে, এখন কিন্তু ৭-৮ ঘন্টাও চলছে না। এই ৭-৮ ঘন্টা চালালে, চালানোর থেকে ক্ষতিটা আমাদের বেশি হচ্ছে। তো আমাদেরকে বলে দিক যে, তোমরা ১২ বা ১৪ ঘন্টাই পাবা, কিন্তু তোমরা এই ১২ ঘন্টাই পাবা এবং এটা যাতে বজায় রাখা হয়।'

গ্যাস সংকটের বড় কারণ ভাসমান টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি, এলএনজি আমদানির ঘাটতি। গরমের মৌসুমে মাসে জ্বালানি নিয়ে ১০ থেকে ১১টি কার্গো আসার কথা। অথচ চলতি অর্থবছর মাসে এসেছে গড়ে ৭ থেকে ৮টি কার্গো। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির এলএনজি আসছে না। কিনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে খোলাবাজার থেকে । 

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, 'সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যতো অর্থের যোগান থাকতে হবে। সেই যোগানের ক্ষেত্রে আসলে সেই জায়গাটি আমাদের হাতে নেই। এটাও মনে করেন একটা মধ্যবিত্ত সরকার।' 

বর্তমানে পেট্রোবাংলার মাসে ভর্তুকি চাহিদা ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। সবশেষ এক কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৩ ডলার ৯৩ সেন্ট দরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ ডলারে কিনলেও প্রতি ঘনমিটারে আমদানি খরচ ছাড়ায় ৭৭ টাকা। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, 'সরকার ইনডাস্ট্রি থেকে পাচ্ছে ৩১ টাকা পয়সা, বিদ্যুৎখাতে পাচ্ছে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি সরকার কতদিন অব্যাহত রাখতে পারবে, সেটাই হলো সবচেয়ে বড় বিষয়।'  

এক্ষেত্রে এলএনজি আমদানির বিকল্প প্রসঙ্গে তাঁর মত, সরকারের উচিৎ গ্যাস কূপ খননে অন্তত ২ বছর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। দরকার হলে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা।

গত অর্থবছর এলএনজি আমদানির ভর্তুকি হিসাবে সরকার মোট অর্থছাড় করে ১৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।