রেলে যুক্ত হচ্ছে ভারতের ২০ বগি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেশেই উৎপাদনের

ভারত থেকে আনা আধুনিক ২০টি ব্রডগেজ বগি এ মাসেই যুক্ত হচ্ছে যাত্রীবাহী রেলের বহরে। এসব কোচ পাবনা ও খুলনা রুটের ট্রেনে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব রশিদ। তবে দেশে যাত্রী সেবা নিশ্চিতে প্রয়োজন শতাধিক নতুন কোচ। এজন্য আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই বগি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি নতুন রেলপথ চালু হলেও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বড় বাধা কোচ বা বগির সংকট। এই একটি কারণেই অনেক রুটে চাহিদামতো পরিচালনা করা যাচ্ছে না ট্রেন।

বিভিন্ন রুটে যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোর বেশিরভাগ কোচ পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ৫৬টি আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য ৪৭৬টি নতুন বগি দরকার। মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের জন্য লাগবে আরও ২৩৮টি নতুন কোচ।

সংকট কাটাতে দেড় হাজারের বেশি নতুন কোচ সংগ্রহের পরিকল্পনা সরকারের। এ মাসেই ভারত থেকে আসছে প্রথম চালানের আধুনিক ব্রডগেজ কোচ। থাকছে এসি স্লিপার ও চেয়ার কার, নন-এসি চেয়ার এবং পাওয়ার কার।

রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকা, পাবনা ও খুলনা রুটে আমরা দুইটা নতুন ট্রেন চালু করতে পারব ব্রডগেজের। ভারতের কোচগুলো আসার পরই বোঝা যাবে এগুলো মানসম্মত কি না। 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই কোচ তৈরি করতে হবে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে বগি তৈরির কারখানার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ২০টা কোচ আসছে, কিন্তু কয়েকশ কোচ লাগবে। কিছুটা সেবা বাড়াবে এসব কোচে। কিন্তু রেলওয়ের যে চাহিদা, এর জোগান দিতে গেলে অবশ্যই আমাদের সৈয়দপুরের, পাবর্তীপুরের,পাহাড়তলীর কারখানা– তাদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি বিষয়। 

মন্ত্রণালয় বলছে, চাহিদা ও দক্ষ জনবলের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে রেলের বগি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হবে।

রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, যৌথভাবে কোনো দেশের সঙ্গে যাতে চুক্তি করে এখানে আমরা যেন দেশের চাহিদা মিটিয়ে পরবর্তীতে বাইরেও যাতে এক্সপোর্ট করা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা আছে।

২০২৪ সালের ২০ মে ১ হাজার ২০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আরআইটিইএসের সাথে চুক্তি হয়। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কোচগুলো যুক্ত হওয়ার কথা রেলওয়ের বহরে।