দেশে হিরোর নতুন অ্যাডভেঞ্চার বাইক, দাম কত?

সব রাস্তাই এবার এক বাইকে। পাহাড়, কাদা, ভাঙা রাস্তা বা হাইওয়ে—কোথাও আটকাবে না। নাম হিরো এক্সপালস ২০০ ৪ভি। এটি শুধু বাইক নয়, পুরোদস্তুর একটি অ্যাডভেঞ্চার মেশিন। আর এবার সেই মোটরসাইকেলই চলে এলো বাংলাদেশে।

ঢাকার হোটেল সোনারগাঁও। গেট দিয়ে ঢুকতেই চমক। চারপাশে পাহাড়ি ট্রেইলের আবহ। ভেতরে আরও বড় চমক—সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে হিরোর সব স্পোর্টি বাইক। আর সবার চোখ আটকে আছে একটি নির্দিষ্ট জায়গায়।

বাংলাদেশের বাজারে হিরো যে এমন বাইক আনবে, তা অনেকেই ভাবেননি। তাই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন প্রায় এক হাজার বাইকার; যারা বাইক নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসেন, দেশটাকে দুই চাকায় দেখতে ভালোবাসেন। তারা এখানেই প্রথমবার ছুঁয়ে দেখছেন, উঠে বসছেন, অনুভব করছেন এই অ্যাডভেঞ্চার মেশিন।

প্রশ্ন হলো, কেন এত আগ্রহ এই বাইক নিয়ে?

কারণ এর ভেতরে রয়েছে দারুণ সব ফিচার। প্রথমত, এর ইঞ্জিন—১৯৯.৬ সিসির শক্তিশালী ইঞ্জিন। পাহাড়ে ওঠা বা কাদা পেরোনো—পাওয়ার নিয়ে ভাবতে হবে না।

দ্বিতীয়ত, এর ব্রেকিং সিস্টেম। এতে রয়েছে তিন ধরনের এবিএস মোড। শহরের পিচঢালা রাস্তার জন্য এক রকম, কাঁচা মাটির জন্য আরেক রকম, আর কঠিন অফ-রোডের জন্য ভিন্ন মোড। অর্থাৎ যেখানে যেমন ব্রেক দরকার, তেমনটাই মিলবে।

তৃতীয়ত, এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স। বাইকের নিচের অংশ বেশ উঁচু, প্রায় ২৭০ মিলিমিটার পর্যন্ত। তাই ভাঙা রাস্তায় বা পাথুরে পথে নিচে ঘষা লাগার ভয় নেই।

এ ছাড়া রয়েছে লম্বা সাসপেনশন, যা ঝাঁকুনি কমাবে। আছে দুই রকম রাস্তায় চলার উপযোগী টায়ার, হাত ও ইঞ্জিনের সুরক্ষার জন্য বিশেষ গার্ড এবং পথ চেনার জন্য স্মার্টফোন কানেক্টিভিটিসহ নেভিগেশন সুবিধা। লম্বা ট্যুরের জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই কোম্পানি থেকে দেওয়া হয়েছে।

বাইকটির উন্মোচনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি তৈরি হয় বলরুমে। মনমুগ্ধকর আলো আর টানটান উত্তেজনার মধ্যে মঞ্চে এক এক করে হাজির করা হয় দুটি ভ্যারিয়েশনের চারটি বাইক। দুই ধরনের রাইডারের জন্য মূলত দুটি আলাদা মডেল আনা হয়েছে:

এক্সপালস ২০০ ৪ভি: যারা প্রতিদিন শহরে চালাবেন, আবার ছুটির দিনে সাজেক বা টেকনাফের দিকে ছুটবেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত। সিট কিছুটা নিচু (৮২৫ মিলিমিটার), তাই চালাতে আরামদায়ক। এর দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। রঙের নাম মেটালিক নেক্সাস ব্লু হোয়াইট।

এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো: এই মডেলটি আরও বেশি অ্যাগ্রেসিভ, যা কঠিন অফ-রোড রাইডারদের কথা ভেবে বানানো হয়েছে। এর সাসপেনশন আরও লম্বা এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২৭০ মিলিমিটার। দাঁড়িয়ে চালানোর সুবিধার্থে এতে রয়েছে উঁচু হ্যান্ডেলবার। এর দাম ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। রঙের নাম পার্ল ফেডলেস হোয়াইট।

একসময় বাইক মানে ছিল শুধু অফিসে যাওয়া-আসা। এখন বাইক মানে স্বাধীনতা, নতুন পথ খোঁজা। হিরোর ভাষায়—‘মেক নিউ ট্র্যাকস।’