শিল্পে গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার ব্যাংক খাতেও। নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, কোথাও বন্ধ রয়েছে কাজ। এতে আয় কমে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। মাত্র ১ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলেও নগদ অর্থের অভাবে সেটিও নিতে পারছেন না অনেকে। ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কল-কারখানায় কমেছে উৎপাদন। রপ্তানিমুখী পোশাক, সিরামিক ও ইস্পাত শিল্পে পর্যাপ্ত গ্যাস না মেলায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ক্ষমতা ঠেকেছে অর্ধেকে। উৎপাদন বন্ধ রেখে ছুটিতেও রয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানান, জ্বালানি সংকটে প্রতিদিন ২ হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে। আয় কমলেও সময়মতো মজুরি, সার্ভিস চার্জ ও ঋণের সুদ দিতে হচ্ছে তাদেরকে। ফলে ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা কমে বাড়ছে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি।
গেল মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। পাহাড়সম ঋণ কমাতে ১ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে পুনঃতফসিলের পথ খুলে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আয় না থাকায় এই সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।
দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে কারখানা সচল করা না গেলে শুধু শিল্প খাত নয়, পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আরো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।