দেশের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল। সে ধারণা থেকে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করতে আনা হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তন। চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা হবে সহজ এবং শুল্কমুক্ত। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, নানা অশুল্ক বাধা দূর করা না গেলে বাড়বে না দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ।
চলতি অর্থবছরের অর্থ আইনে কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে সরকার। মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে এর আওতায় বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে আনোয়ারায় এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে ৬০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল। অর্থ আইনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে অবস্থিত যে কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবে। এক্ষেত্রে আলাদা কোনো ওয়্যারহাউস লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না।
বিএসআরইএ'র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, 'বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা আমরা সব সময়ই বলে আসছি। এই জটিলতা অবশ্যই নিরুন করা উচিত। এই জটিলতা থাকলে বিনিয়োগ আসার সুযোগ কম থাকে। বিশ্বব্যাপী যেসব দেশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছে এবং সফল হয়েছে, সেখানে 'ইজ অব ডুয়িং বিজনেস' খুবই ভালো পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।'
উদ্যোক্তারা বলছেন, দুর্নীতি রোধ করা সহ, বিভিন্ন অশুল্ক বাধা দূর করা না গেলে শুধু শুল্ক মুক্ত সুবিধায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়।
চায়না চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, 'তারা গ্যাস উৎপন্ন করতে পারবে, তারা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারবে। এই দায়িত্বটা কিন্তু আমি চীনের ওপরে দিয়ে দিই, এই প্রকল্পটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। বহু মিল আছে, যারা টাকা জমা দিয়েছে, কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।'
সম্প্রতি, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে আমদানি বাণিজ্য পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মূল লক্ষ্য হলো লেনদেন সহজ করা, ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমানো এবং শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা।