সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার কথা। গ্যাস দেয়া যাবে না কাভার্ড ভ্যানেও। অথচ গাজীপুর-ময়মনসিংহ রুটের বেশিরভাগ সিএনজি স্টেশন সরকারি নির্দেশ মানছে না। বন্ধ রাখার সময়ে অন্ধকারে গ্যাস দেয়া হচ্ছে কাভার্ড ভ্যানে। অথচ নজর নেই তিতাসের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। অনেকের অভিযোগ, এ কারণে গ্যাস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
২৬ আগস্ট, রাত সাড়ে আটটা। গাজীপুরের সালনার বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পেট্রল পাম্প। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই সময়ে আলো নিভিয়ে গ্যাস দেয়া হচ্ছে কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা অবৈধ সিলিন্ডারে। অপেক্ষায় ছিলো অন্তত ৫টি কাভার্ড ভ্যান।
সন্ধ্যা সাতটায় সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার কথা। অথচ ময়মনসিংহের ভালুকার উর্বী সিএনজি স্টেশনে কার্ভার্ড ভ্যানে গ্যাস দেয়া হচ্ছে। বেশি টাকা দিলে পাচ্ছে অন্য গাড়িও।
একেকটি কাভার্ড ভ্যানে সিলিন্ডার থাকে শতাধিক। একবারে গ্যাস নেয়া যায় ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকার। ময়মনসিংহের মাদানী সিএনজি স্টেশনে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের উপস্থিতি টের পেয়ে ম্যানেজার লুকায় বাথরুমে।
এই স্টেশন থেকে বের হওয়া একটি গাড়ির পিছু নিলে, মাঝপথে গাড়ি রেখে পালিয়ে যায় চালক। দরজা খুলতেই পাওয়া যায় অসংখ্য সিলিন্ডার।
গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিএনজি স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাতের অন্ধকারে এসব স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস যাচ্ছে বিভিন্ন কারখানায়। আর দিনে গ্যাসের তীব্র সংকট।
অথচ এসবের কিছুই জানে না তিতাস কর্তৃপক্ষ। তিতাসের লিগ্যাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এস এম মাহবুব আলম বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা স্টেশন খোলা রাখা ও কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস দেওয়া দুটোই বেআইনি।’
কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস পরিবহনে ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।