সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গেল দুই দিনে সাড়ে ৩৭ হাজারের বেশি গ্রাহক টাকা তোলার আবেদন করেছেন। এর বিপরীতে উত্তোলন করতে চাওয়া অর্থের পরিমান ২ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। তবে এখনো বড় ধরনের চাপ দেখছে না ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর টাকা উত্তোলনের দুয়ার খোলায় অনেকেই ভিড় করেছেন ব্যাংকে। কারও লক্ষ্য জমানো অর্থের মুনাফা তোলা, আবার কারও পুরো আমানত একসঙ্গে তুলে নেওয়ার আবেদন করা।
গত ২ দিনে ব্যাংকটিতে আবেদন পড়েছে ৩৭ হাজার ৬১৩টি। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এককালীন পুরো অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন ৭ হাজার ৬০৯ জন গ্রাহক এবং তাদের অর্থের পরিমানে ৬০৪ কোটি টাকা। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন চাপ সামলাতে হয়নি ব্যাংকটিকে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, 'এই আবেদন আগামী মাসেও চলবে, তার পরের মাসেও চলবে, তার পরের মাসেও চলবে; যতদিন না পর্যন্ত আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে পারব। কারণটা হলো যে, এই আবেদনটা যেদিন গ্রহণ করছি, তার থেকে পেমেন্ট দেওয়ার সময়টা আমরা ৫-৭ দিন হাতে রেখেছি। কারণটা হলো যে, আমাদেরকে টাকার যোগান করতে হবে।'
জরুরী প্রয়োজনের পাশাপাশি পুরো টাকাও তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকছে গ্রাহকদের জন্য। তবে সেক্ষেত্রে মুনাফা দেবে না ব্যাংকটি। এছাড়া আগামীতে টাকা উত্তোলনের জন্য ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে না বলেও জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার।
তিনি বলেন, 'টাকা নিতে পারতেছে, টাকা দিতে পারতেছি- এটাই শেষ নয়। আমরা এখন স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছি। তো আমরা কাস্টমারদের আহ্বান জানাই যে, আমাদের সাথে এখন স্বাভাবিক লেনদেন আপনারা করুণ। আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন, এটা সরকারি ব্যাংক।'
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি আর খারাপ হবার সম্ভাবনা নেই। তাই ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখে গ্রাহকদেরকে স্বাভাবিক লেনদেন করার আহবান জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক।