রবিশস্য ও আমান আবাদকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় সার নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, তাও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দাম দিয়ে। অন্যদিকে, জেলা ভিত্তিক পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার দাবি কৃষি বিভাগের। আর প্রশাসন বলছে, কৃষক গুজবে বিভ্রান্ত হওয়ায় তৈরি হচ্ছে সারের কৃত্রিম সংকট।
নীলফামারীতে কৃষকদের কাছে ইউরিয়া, পটাশ, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এ মাসে জেলায় ৩ হাজারে ২৫৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন পটাশ এবং ২২৮ মেট্রিক টন টিএসপির চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সারের কোনো কমতি নেই বলে দাবি কর্মকর্তদের। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সার মিলছে না বলে অভিযোগ চাষিদের। সরকারের নির্ধারিত দামের তুলনায় নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি।
দিনাজপুরে কৃষকদের অভিযোগ, বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ গোপন করতে কৃষকদেরকে কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। একই অবস্থা যশোরেও। অন্যদিকে অতিরিক্ত দামের জন্য পরিবহন খরচের দোহাই দিচ্ছেন অনেক ডিলার।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আবুল হাসান বলেন, ‘জেলাভিত্তিক পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। তবে কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দাম আদায়ের চেষ্টা করছে।’
রাজশাহীতেও সার সংকটে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় কৃষক।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি চেষ্টা চলছে।’
কুড়িগ্রামে চলতি মাসের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এদিকে, রৌমারিতে সার লুটের একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও লুটের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি প্রশাসনের।
খোলা বাজারে ইউরিয়া ও টিএসপি সার কেজিপ্রতি ২৭ টাকা দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। এছাড়া ডিএপি ২১ ও এমওপি'র দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা।