বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়ছে ফার্নেস অয়েল নির্ভরতা, লোডশেডিং কমার আশা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে বাড়ছে ফার্নেস অয়েল নির্ভরতা। অক্টোবর পর্যন্ত তরল জ্বালানির বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার। ৫০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধের পর বেসরকারি উদ্যোক্তাদের তেমন নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি, কিছুটা কমবে লোডশেডিং।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১৯ শতাংশ ফার্নেস অয়েল নির্ভর। এমন কেন্দ্রগুলোর স্থাপিত সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বেসরকারি এসব কেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের পাওনা ছিল প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

৬/৭ মাসের বকেয়া বিল না পেয়ে, অনেকের জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা কমে যায়। এতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও নেমে যায় গড়ে ২ হাজার ২শ মেগাওয়াটের ঘরে। সরকারি উদ্যোগে গত সপ্তাহে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে পিডিবি।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপপা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বলা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ পেমেন্ট সেটেল করে দিয়েছে সরকার, কিছু কিছু কোম্পানিকে তেলও দেওয়া হচ্ছে। কমবেশি এলসিও হয়েছে। একই সঙ্গে যে এলসি খোলা হলো, সেই তেল হয়তো ২০–২৫ তারিখের দিকে আসবে।

অনেক কেন্দ্র বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি থেকে ফার্নেস অয়েল কিনছে। নিজেরাও আমদানির জন্য বিপিসির অনুমোদন নিচ্ছে। চলতি মাসের শেষদিকে ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর গড় উৎপাদন ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে।

বিপপা সভাপতি বলেন, আমরা আশা করছি সবার জন্য তেল এসে যাবে, তখন আমরা ৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি দিতে পারব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেগুলো আছে, সেগুলো কম চালিয়ে সেটা যেন শিল্পখাতে দেওয়া যেতে পারে এবং বিদ্যুৎখাতের চাহিদা মেটাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। এতে খরচ হয়তো বাড়বে, কিন্তু আপৎকালীন সময়টা সামাল দেওয়ার জন্য; সরকারের সিদ্ধান্তটা ঠিক।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে পরিকল্পনায় বিপিসির কাছে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ৮৮ হাজার টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়। সম্প্রতি তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার টন । বিপিসির মজুদ ও আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা ২ কার্গো মিলে সরবরাহ করা যাবে দেড় লাখ টনের মত।