সারের সংকটের মধ্যেই ডিজেলের দাম বৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে কৃষকের জন্য। আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ তো বাড়বেই, সামনের বোরো মৌসুমে ধানের ফলন কতটা মিলবে তা নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তা ভর করেছে। বিশেষজ্ঞরা পুরো অর্থনীতিতেই বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা করছেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষককে প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ তাঁদের।
মাস দুয়েক ধরে সারের সংকট। আমনের চারা রোপণ করলেও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা। সার না পেয়ে অনেক এলাকায় বিক্ষোভও হয়েছে। এখন ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি ভাবনায় ফেলেছে কৃষককে।
নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হবে বোরোর বীজতলার কাজ। জমি তৈরি থেকে ধান কাটার আগ পর্যন্ত প্রায় পুরো সময়টা সেচের প্রয়োজন হবে। দেশে প্রায় ৮০ ভাগ সেচ কার্যক্রম ডিজেলনির্ভর। পাশাপাশি বীজ, কীটনাশক, শ্রমের মজুরিও বেড়েছে। সবই বাড়ছে, তবে ফসলের ন্যায্য দাম না মেলার অভিযোগ চাষিদের।
একজন কৃষক বলেন, ‘ফসলে তো এমনিতেই আমরা মূল্যায়ন কম পাচ্ছি। এখন যদি তেলের দামও বাড়ে, তাহলে আমরা কীভাবে কাজ করে খাব? এই ধান উৎপাদনে তো পানি দরকার। পানি তুলতে তো ডিজেল লাগবে। তারপর এই যে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ হয়, সেটা চালাতেও তো ডিজেল লাগবে।’
দেশে ডিজেলের চাহিদা বছরে প্রায় ৪৪ লাখ টন। এর প্রায় ২৪ শতাংশই ব্যবহার হয় কৃষিতে। সেচের পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি চালাতেও ডিজেল জরুরি।
আরেকজন কৃষক বলেন, ‘যা আবাদ করেছি, সার–পানি দিতে পারিনি। এখন খুব সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’
ফসল উৎপাদনে ব্যয় বাড়লে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়বে। যা উসকে দিতে পারে মূল্যস্ফীতিকে। হুমকিতে পড়তে পারে খাদ্যনিরাপত্তা। তাই প্রণোদনা দেওয়ার তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পোষাতে নগদ সহায়তা দিতে হবে। এই সহায়তা বা ভর্তুকি যাতে প্রকৃত কৃষকের কাছেই পৌঁছায়, সেটারও ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে ভালোভাবে তদারকি করা দরকার।’
প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে অর্থ সাশ্রয় করে কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।