নানা বাধার পরও গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তারপরও ৩০ হাজার টাকা করার দাবি কতটা যৌক্তিক তা পর্যালোচনা করা উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মজুরি নির্ধারণে আয়-ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।
তিন বছর আগে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরও মূল্যস্ফীতির কারণে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মূল্যস্ফীতির নিচে।
গত ১৪ বছরে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। রপ্তানিতে এগোলেও শ্রমিকদের মজুরিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১০২ ডলার। অথচ প্রতিযোগী দেশ চীনে ন্যূনতম মজুরি ২৯৪ ডলার এবং ভিয়েতনামে ১৬৩ ডলার। ভারত ও পাকিস্তানের মজুরিও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘মজুরি নির্ধারণে আয়-ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।’
মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক মজুরি কাঠামো নির্ধারণের ওপর জোর দিতে হবে।’
কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বা একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, দেশের অর্থনীতি এবং শিল্প খাতের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে মজুরি ঠিক করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।