ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ করলেও দেশের বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। রোবববার রাজধানীর ফার্মগেটে তুলা উন্নয়ন বোর্ড (সিডিবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছি, দেশে এসেছে মাত্র তিন লাখ টন। এর অর্থ হলো দেশেও পেঁয়াজ আছে। মাঠ পর্যায়েও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দেশের কৃষকদের নিকট এখনো তুলনামূলকভাবে পেঁয়াজের মজুদ আছে। কাজেই, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও দেশে পেঁয়াজের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না।’
কৃষিমন্ত্রী এ কথা বললেও বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন পরিস্থিতি। পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরপরই উত্তপ্ত দেশের পাইকারি বাজার। রাতেই কেজিতে বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। এই বাড়তি দামে দিশেহারা ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ চেয়েছে তারা।
পাইকারি বাজারে দিনে ভারতীয় যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা, ৪০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার রাতেই তা দাঁড়ায় ৬৫তে। আর দেশি পেঁয়াজের পাইকারি যেখানে ছিল ৬৫ থেকে ৭০, রাতে তা বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার পরই এর প্রভাব পড়েছে আমদানির বাজারে।
দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ টন। এর মধ্য ভারত থেকে আমদানি হয় ৭ থেকে ৮ লাখ টন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, ‘শুল্ক আরোপের ঘোষণায় এখন দাম কিছুটা বাড়লেও কয়েক দিন পর কমে আসবে।’
তুরস্ক, মিশর ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করা হবে বলেও এসময় জানান কৃষিমন্ত্রী।
স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। গত শনিবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানায়। এ সিদ্ধান্ত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশে ভারত ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা পেঁয়াজ আমদানি হয়।