দিন দিন বেড়েই চলেছে সবজি, ডিম, মুরগি, চিনি, ডাল, সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে। মূল্যস্ফীতির বড় শিকার দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
রাজধানীর ডেমরায় ছোট একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সীমিত আয়ে তিন সন্তানের সংসার চালাতে গিয়ে এখন নিত্যদিনই হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। বাড়তি দামের চাপে বাধ্য হয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
ইব্রাহিম বলেন, ‘কাট-ছাট করে জীবন চলছে। কারণ এটি না করলে আমাদের যে আয় সে অনুয়ায়ী চলা মুশকিল। নিজের পছন্দ অনুয়ায়ী জিনিস নেওয়া যাচ্ছে না, চাইলেই একটি বড় মাছ নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।’
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে চাল, ডাল, তেল ও মাংসের দাম। সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৬ শতাংশ বেড়ে বোতলজাত প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। মাঝারি মানের চাল কেজিতে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকায়। খোলা চিনি কেজিতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। গরুর মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। একই সঙ্গে ডিম ও কাঁচা সবজির বাজারেও অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান তৎপরতা খুব কম বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, প্রথম যে বিষয়টি ছিল বাজার মনিটরিং করা, সেটি আমি একদমই দেখছি না। দ্বিতীয়ত ব্যবসায়ীক কমিউনিটির সঙ্গে বসে ব্যবসায়ীক কমিউনিটিকে রিলিজ করা, বাজার কমিটি থেকে শুরু করে বা দোকান মালিক কমিটি তাদেরকে অনবোর্ড করে, তাদের নিয়েই কাজটা করা উচিৎ ছিল। কিন্তু সেই জায়গাটা নেই, দেখছি না।’
মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।
অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘স্যোসাল প্রোটকশটাকে আমি বলব টোটাল ইনডেস্কিং করা। যেটা আছে তার থেকে কোনোদিন কমবে না, বরং প্রতি বছর যে মূল্যস্ফিতিটা হবে এটলিস্ট সেই পরিমাণ টাকা প্রত্যেকেরই বাড়বে। তাহলে সে কোনোদিন কমছে বলে যে ধারণাটা সেটা করবে না।’
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় চলতি মাসের সার্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।



