বিগত অর্থবছরের বেশির ভাগ কার্যদিবসেই দরপতন ছিলো শেয়ার বাজারে। এসময়ে ডিএসইতে প্রধান সূচক কমেছে এক হাজার পয়েন্টের বেশি। বাজার ছেড়েছেন প্রায় ৮৩ হাজার বিনিয়োগকারী। পুঁজিবাজারে ৫০ লাখ টাকার বেশি মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর বসানোয় উদ্বেগ বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বাজারে আস্থা ফেরাতে সমন্বিত উদ্যেগ নেয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।
গেল অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিলো ৬ হাজার ৩৪৩ পয়েন্ট। আর অর্থবছরের শেষ কার্য দিবসে সূচকের অবস্থান ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক বছরে সূচক কমেছে ১ হাজার ১৫ পয়েন্ট।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ফেরাতে কিছু দিকনির্দেশনা থাকবে, এমন প্রত্যাশা ছিলো সংশ্লিষ্টদের। যদিও, ৫০ লাখ টাকার বেশি মূলধনী আয়ের উপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়। আর ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের থেকে দুই পদ্ধতিতে মূলধনী আয়ের কর নেয়া হবে। এতে বেনামে শেয়ার কেনাবেচা কমবে বলে দাবি তাদের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভালো কোম্পানি বাজারে না আসা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার বিমুখ হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যেগ নেয়ার পরামর্শ তাদের।
বিএমবিএ’র সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘ক্যাপিটাল গেইনের বিষয়টাতে পুঁজিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এটা কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগকারীর ওপর প্রভাব পড়ার কথা কিন্তু সার্বিকভাবে ছোট, বড় সকল বিনোয়োগকারী এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন।’
ডিবিএ’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস যদি থাকতে তাহলে মানুষ এই মার্কেটে বিনিয়োগকারী আসতো। আর দ্বিতীয় কারণ হলো আমরা বাজারকে বড় করতে পারছি না। বাজার ঘুরে দাঁড়াতে নতুন বিনিয়োগকারী, নতুন কোম্পানি আনতে হবে।’
২০২৩-২৪ অর্থবছরে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন ৮২ হাজার ৮১০ বিনিয়োগকারী। অর্থবছরের শেষ কার্যদিবসে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৭টি।