পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির গড় মুনাফা কমেছে ২৪ শতাংশ

রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংকের উচ্চ সুদ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির আয় কমেছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে, কোম্পানিগুলোর গড় মুনাফা কমেছে ২৪ শতাংশ। বেসরকারি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এ-সময়ে সবচেয়ে বেশি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কাগজ ও মুদ্রণ এবং সিরামিক খাত। তবে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। 

ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, উৎপাদনশীল খাতে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বৃদ্ধি পায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমের খরচ। 

এর প্রভাবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় কমেছে। ব্রোকারেজ হাউস শান্তা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন বলছে, এসময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাগজ ও মুদ্রণ এবং সিরামিক খাত। ২০২৪ সালে তিন প্রান্তিকে এসব খাতে মুনাফা কমেছে ১৪৯ শতাংশের বেশি। 

বছরের মাঝামাঝি সময়ে শ্রমিক অসন্তোষ, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং উচ্চ সুদহারের প্রভাবে টেক্সটাইল খাতে ৭০ শতাংশের বেশি মুনাফা কমেছে। একইভাবে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে মুনাফা হ্রাস পেয়েছে ৬২ শতাংশ। 

ব্যাংক খাতে ১৬ শতাংশ আয় কমলেও ভিন্ন চিত্র দেখা যায় বিমা খাতে। যেখানে আয় হয়েছে ১ শতাংশের কম। 

গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগের অবস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের সুদহার এসবের একটা প্রতিফলন। তবে এই সংস্কারগুলো হয়ত একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন সুশাসিত পুঁজিবাজার আমাদের দিতে পারবেন।’  

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে গতি ফিরবে পুঁজিবাজারে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘লোকাল ইন্ডাস্ট্রি ইমপোর্টের অভাবে অথবা গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যা যা করা দরকার সেটা করতে হবে। তাহলে অটোমেটিক পুঁজিবাজারেরও উন্নয়ন হবে।’

প্রতিবেদন বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে ২০২৫ সালের প্রধান চ্যালেঞ্জ।