৪৮তম বিসিএস থেকে প্রতি বছর একটি বিসিএস শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন। কমিশন বলছে, বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস যুগোপযোগী করা, তিন স্তরের মৌখিক পরীক্ষা চালু করাসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে কমিশন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা অভিযোগ ছিল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে। ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর কমিশনেও আসে পরিবর্তন।
বিসিএসের দীর্ঘসূত্রতা কমানো, নতুন চাকরির বিজ্ঞাপন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়ার আহ্বান করে আসছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
প্রার্থীরা বলছেন, বিসিএসে যে দীর্ঘসূত্রতা আছে, সেটা বন্ধ হওয়া জরুরি। সেই সাথে যে পরীক্ষা নেওয়া হয় সেটির নম্বরপত্র প্রকাশ করতে হবে। এতে তাঁরা বুঝতে পারবে কীভাবে কে কত পেয়ে পাস করল, আর কেই বা পাস করতে পারল না বা কেন পারল না।
এ অবস্থায় প্রতিটি বিসিএসের জন্য আলাদা রোডম্যাপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘যার যতটুকু মেধা আছে তা কাজে লাগিয়ে দেখতে হবে কীভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে দীর্ঘসূত্রিতা কমানো যায়। এরইমধ্যে অন্যান্য স্টেকহোল্ডার্সের সঙ্গে বসে এ উদ্দেশ্যে কিছু পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।’
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, ৪৮তম বিসিএস থেকে প্রতি বছর একটি বিসিএস শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর জন্য আলাদা ইউনিক আইডি চালু হবে। এই আইডি দিয়ে প্রার্থী একাধিকবার বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কমিটি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ৪৬তম প্রিলিমিনারির ফল নতুন করে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে। আর ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২২ ডিসেম্বর থেকে।