সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ

স্কুলের টাকা জমা রাখার নিয়ম ব্যাংকে। কিন্তু সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ৮ কোটি টাকার এফডিআর করেছে পিকে হালদারের ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানিতে। এছাড়া স্কুলটিতে তিন শিফট মিলিয়ে চলছে ৮৪টি অবৈধ শাখা। ৬৮ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও ২ কোটি টাকা আত্মসাতেরও প্রমাণ মিলেছে তদন্তে। অভিযুক্ত ২ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা আধিদপ্তর।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪ হাজারের বেশি। শিক্ষক-কর্মকর্তা রয়েছে ১৬০ জন। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

নিবন্ধন ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৬৮ জন শিক্ষক। এছাড়া গত ১১ বছর ধরে উৎসব ভাতার নামে আত্মসাৎ হয়েছে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা আধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে সাবেক প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাহাব উদ্দিন মোল্লার নাম।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা আধিদপ্তর পরিচালক এম. এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে নিরীক্ষা কার্যক্রমে ওই স্কুলে বেশ কিছু আর্থিক এবং নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল ফান্ডের ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ফার্স্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিতে, ২ কোটি ১২ লাখ টাকা পিপলস লিজিং কোম্পানিতে, এবং জিপিএস ফাইন্যান্স কোম্পানিতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা এফডিআর করা হয়েছে। গাছ কাটায় ৩৩ হাজার টাকা, পোস্টার ও লিফলেট ছাপা বাবদ ৭০ হাজার টাকা, পত্রিকার বিজ্ঞাপন বাবদ ৩ লাখ টাকার ভুয়া বিল ভাউচারে তুলে নেয়া হয়েছে।  

এসব অনিয়মের বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো সদুত্তর নেই।  

এ বিষয়ে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘অনিয়মের কোনোকিছু দেখি নাই। তবে অনিয়মনের কিছু অভিযোগ আছে, এগুলোর জবাব দিবো আমরা। যদি এগুলো প্রমাণিত হয় তারপরে তো দোষী হবো।’

শিক্ষা গবেষকেরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম ঠেকাতে না পারলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রমাণ আছে, তাহলে প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্তদের শোকজ করা, তাদের মাধ্যমে দুর্নীতির টাকাগুলো নিয়ে এসে কোষাগারে জমা করা– এরকম অসংখ্য নিয়ম-কানুন আছে। এগুলো করা গেলে দুর্নীতি কিছুটা কমে আসবে।’